Wednesday, 12 August 2026

Lecture 1: Module 1 Session 1

 

প্রশিক্ষণার্থী ম্যানুয়াল মডিউল- এর "সেশন-: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা" অংশের মূল পাঠ্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো: (Reference book Page Number 8-15)

Original PCB book Link: 

Lecture 1: Module 1 Session 1 :

https://drive.google.com/file/d/163XxT4hbWE9WJn8MPdp73WynIwZUUVZR/view?usp=sharing


 

সেশন-: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা                                                              

স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবিধানিক বিধান

দফা-১৫. মৌলনীতি

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে উৎপাদনশীল জনশক্তি বাড়ানো এবং মানুষের বস্তুগত সাংস্কৃতিক মানসম্মত জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এককভাবে উন্নয়ন ঘটিয়ে নাগরিক জীবনের মৌলিক চাহিদা, যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

 

দফা-১৮. জনস্বাস্থ্য নৈতিকতা

) রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে পুষ্টির অবস্থা/মাত্রা উন্নীত করা জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো; বিশেষ করে, এলকোহল অন্যান্য নেশা জাতীয় পানীয় এবং মাদক যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সেগুলোর ব্যবহার রোধকল্পে রাষ্ট্র কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে (আইনে বর্ণিত চিকিৎসা বা অন্য কোন উদ্দেশ্য ছাড়া)

) পেশাভিত্তিক যৌনকর্ম জুয়া বন্ধ করতে রাষ্ট্র কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে।

জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি, ২০১১

জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য

সপ্তদশ: অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সহজলভ্যতা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

 

মূলনীতি কর্মকৌশল

১৪. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা এবং সর্বত্র সেগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। দেশীয় ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 

সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও/উন্নয়ন সহযোগী পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা

  • সরকারি:
    • প্রাথমিক উৎস, প্রতিরোধ প্রতিকারমূলক উভয়ই।
    • স্থানীয় সরকারের কাঠামো অনুযায়ী বিন্যস্ত।
    • প্রাথমিক, মাধ্যমিক পরবর্তী পর্যায়ের সেবা, অধিকাংশই বিনামূল্যে।
    • সরকারি-বাজেট গ্রহণ করে, বাৎসরিক রাজস্ব এবং উন্নয়ন অনুযায়ী হবে।
    • মানবসম্পদ: প্রাথমিকভাবে স্থায়ী কর্মী।

 

  • বেসরকারি:
    • ভৌগোলিকভাবে শহরভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা।
    • প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধমূলক সেবা।
    • মাধ্যমিক পরবর্তী পর্যায়ের সেবা প্রদান।
    • হাসপাতাল ক্লিনিকের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বাজার-নিয়ন্ত্রিত সেবার খরচ এবং লভ্যাংশ।
    • দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।

 

  • এনজিও/ উন্নয়ন সহযোগী:
    • বেসরকারি সংস্থার স্বাস্থ্যসেবা মূলত: নগরকেন্দ্রিক, উন্নয়ন সহযোগী তহবিল-নির্ভর শূন্যস্থান পূরণ করার মত বিষয়।
    • প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পরিবার পরিকল্পনা চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করে।
    • সেক্টর-ওয়াইড কর্মসূচি পরিকল্পনা, দ্বি-পাক্ষিক প্রকল্পে সরাসরি সহায়তা, জাতিসংঘ, গ্লোবাল ফান্ড, GAVI এদের মাধ্যমে উন্নয়ন সহযোগী সরকারকে সাহায্য দিয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো জাতীয় স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা পুষ্টি বিষয়ক নীতিমালা/ নীতি নির্ধারণ, কর্মসূচি এবং কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করা। এই মন্ত্রণালয় দুইটি বিভাগে বিভক্ত:

১। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং

২। স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বিভাগ দুটি দুইজন সচিবের অধীনে পরিচালিত হয়।

 

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাস্তবায়নকারী দপ্তর/অধিদপ্তরসমূহ

প্রধান অধিদপ্তরসমূহের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (DGFP); প্রতিটি অধিদপ্তরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহাপরিচালক (DG) স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসমূহের জাতীয় মাঠ পর্যায়ে আলাদা ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদানের কাঠামো রয়েছে।

অন্যান্য দপ্তর/অধিদপ্তরগুলো হচ্ছে- ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA), নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (DGNM), হেলথ ইকোনোমিক ইউনিট (HEU), জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (NIPORT) এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ (HED)

পরিবহন যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা (TEMO) এবং জাতীয় তড়িৎ-প্রকৌশল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ওয়ার্কশপ (NEMEMW&TC) হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষায়িত দপ্তর; যেগুলো ঢাকায় অবস্থিত এবং চিকিৎসা বিষয়ক যন্ত্রপাতি যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।

 

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ

বাংলাদেশের সংবিধিবদ্ধ/স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ:

. বিএমডিসি - বাংলাদেশ মেডিকেল ডেন্টাল কাউন্সিল;

. পিসিবি - ফার্মেসী কাউন্সিল অব বাংলাদেশ;

. এসএমএফ - স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি;

. বিএনএমসি - বাংলাদেশ নার্সিং মিডওয়াইফারি কাউন্সিল;

. বিএইচবি - বোর্ড অব হোমিওপ্যাথি, বাংলাদেশ;

. বিইউ অ্যান্ড এবি - বোর্ড অব ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদ, বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছয়টি স্বায়ত্বশাসিত পেশাজীবী নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (বিএমডিসি, পিসিবি, এসএমএফ, বিএনএমসি, বিএইচবি বিইউ অ্যান্ড এবি) দায়িত্ব হচ্ছে ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফার্মাসিস্ট এবং বিকল্প চিকিৎসা পেশাজীবী তৈরি করা। বিএমডিসি ডাক্তার, ডেন্টিস্ট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের নিবন্ধনের কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। চিকিৎসা শিক্ষা চিকিৎসা সেবা দক্ষতার মান নিশ্চিত করাও এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। বিএমডিসির দায়িত্ব হচ্ছে চিকিৎসা বিষয়ক যে কোন অবহেলা, সঠিক সেবা না দেয়া অথবা পেশার অপব্যবহার সম্পর্কিত বিষয়গুলি দেখভাল করা এবং স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল (বিএনসি) নার্সিং শিক্ষা নার্সিং সেবা নিয়ন্ত্রণ করে যার মধ্যে রয়েছে নার্সিং ইন্সটিটিউটসমূহের অন্তর্ভুক্তিকরণ, নার্সিং স্বগোত্রীয় পেশাজীবীদের পরীক্ষা এবং রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করা। মিডওয়াইফারী একটি নতুন ক্যাডার যোগ হতে যাচ্ছে যা বিএনসি (বা পরবর্তীতে বিএনএমসি) নিয়ন্ত্রণ করবে। যাহোক, নার্সিং অধিদপ্তর শক্তিশালী পুনর্গঠন করতে এবং বিএনসি পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টির (এসএমএফ) দায়িত্ব হচ্ছে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) অন্তর্ভুক্তিকরণ; এই প্রতিষ্ঠানসমূহ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান তৈরি করে থাকে। এসএমএফ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ল্যাব টেকনিশিয়ানদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি তাদের পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকে। ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের (গ্রেড বি) শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা নেওয়া এবং রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড (বি এইচ বি), বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি শিক্ষা হোমিওপ্যাথি সেবা নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদিক সিস্টেমস্ অব মেডিসিন (বি ইউএন্ডএবি) নিয়ন্ত্রণ করে ইউনানী আয়ুর্বেদিক শিক্ষা এবং সেবা। উভয় প্রতিষ্ঠানই ১৯৮২ সালের আইনের আওতায় কাজ করছে (দি প্রাইভেট প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২) এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে এগুলোর সীমিত সম্পর্ক রয়েছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই পরীক্ষা নেয়া পেশাদারীত্ব নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। যদিও অধিদপ্তরসমূহ সরাসরি স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে, তারপরও সংবিধিবদ্ধ/ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের আলাদা বোর্ড ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া রয়েছে।

 

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পেশাজীবী সংগঠনসমূহ

  • বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ);
  • বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটি (বিপিএস)

সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসমূহের বিশদ কাঠামো রয়েছে। পাবলিক/সরকারি বিভাগ বাদে বাংলাদেশে প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের বিশাল একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা সত্ত্বেও প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বানিজ্যিকীকরণ এবং চাপিয়ে দেয়া প্যাথলজীক্যাল পরীক্ষা, অপ্রয়োজনীয় পদ্ধতি দামী ইনটেনসিভ কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটের ব্যবহার। অনেক প্রাইভেট ক্লিনিককে সরকারি ডাক্তারদের উপর নির্ভর করতে হয়; কারণ তাদের যোগ্য নার্স সাহায্যকারী কর্মী নেই।

 

কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা

মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা বিষয়ক সেবা বিভিন্ন স্তরের সাথে বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রান্তিক পর্যায়ের সেবাকেন্দ্র হচ্ছে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক যা প্রায় ,০০০ জনকে সেবা দেয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে, গড়ে ৩০,০০০ জনকে সেবা দিচ্ছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। উপজেলা সদরে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স অবস্থিত। পরবর্তী পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয় জেলা সদরের হাসপাতাল থেকে। সবার উপরে রয়েছে বিশেষায়িত হাসপাতালসমূহ যেগুলোর বেশিরভাগ বিভাগীয় শহরে অবস্থিত। জেলা পর্যায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকারী উপস্থিতি বিদ্যমান। বিভাগীয় পর্যায়ে, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরসমূহের আলাদা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকান্ড রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাঠামোর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিশেষায়িত ইন্সটিটিউটসমূহ টারশিয়ারী পর্যায়ের সেবা দিয়ে থাকে। কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহ সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয় গবেষণাসহ বিশেষায়িত সেবা দিয়ে থাকে। স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা সেক্টরে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা/ পরিচালনা নেতৃত্বদান করার জন্য আইন তাদের এই ক্ষমতা প্রদান করেছে।

 

নগর/আরবান স্বাস্থ্যসেবা

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়নের দিকে যাচ্ছে। শহরের জনসংখ্যার অনুপাত থেকে প্রতীয়মান হয় যে ২০১১, ২০১৩ ২০১৫ সালে নগরায়ণ যথাক্রমে ৩১%, ৩৩% ৩৪% ছিল। এই হারে ২০৫০ সাল নাগাদ নগর জনসংখ্যা ৫৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবার সম্ভবনা রয়েছে।

নগরাঞ্চলের স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা বিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণত তিন ধরনের স্বাস্থ্য সেবাপ্রদানকারীর মাধ্যমে দেয়া হয়ে থাকে - সরকারি, বেসরকারি (দাতা সংস্থার সহায়তাপুষ্ট) এবং প্রাইভেট স্বাস্থ্য সেবাপ্রদানকারী। স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় সরকারি পর্যায়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা বিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে।

সারাদেশে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যাপক নেটওয়ার্ক রয়েছে। বর্তমানে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে নগর/মহানগর পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যক্ষা হাসপাতাল কুষ্ঠরোগ হাসপাতাল রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই সকল সরকারি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র নগরাঞ্চল, উপ-নগরাঞ্চল গ্রামাঞ্চলে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি টার্শিয়ারি পর্যায়ের এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এর বাইরে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নগরবাসীদের ইপিআই, মা শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক বহির্বিভাগ সেবা দিচ্ছে। এছাড়াও, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে জেলা সদরে মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে।

মা শিশুস্বাস্থ্য এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহ প্রসবকালীন সেবা, প্রসবোত্তর সেবা, গর্ভপাত পরবর্তী সেবা, তাৎক্ষণিক নবজাতকের যত্ন, পাঁচ বছরের নিচে শিশুর চিকিৎসা, নবজাতকের সংক্রমন ব্যবস্থাপনা, জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট ব্যবস্থাপনা, সংক্রামক রোগের ব্যবস্থাপনা, অসংক্রামক রোগের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিসহ প্রতিকারমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকে। এই হাসপাতালসমূহ গর্ভকালীন সেবা, প্রসবোত্তর সেবা, টিকাদান, নবজাতকের অত্যাবশ্যকীয় যত্ন, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পুষ্টির ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ/ব্যবস্থাপনা, দশ বছরের নিচে শিশুদের কৃমিনাশক প্রদান ইত্যাদিসহ সকল প্রকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাও প্রদান করে থাকে। উপজেলা হাসপাতালসমূহ একইরকম প্রতিকারমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকে; যদিও কিছু কিছু প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সেখানে পাওয়া যায় না।

বিশেষায়িত হাসপাতালসমূহ সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সেবা প্রদান করে (যেমন- হৃদরোগ, চোখের সমস্যা, কিডনী রোগ ইত্যাদি) মা শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটসমূহ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাতৃ, শিশু স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা ইউনিটসমূহ সকল প্রকার পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সেবা প্রদান করে থাকে। এই হাসপাতালসমূহ টিকাদান পাঁচ বছরের নিচে শিশুর চিকিৎসাও দিয়ে থাকে। মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সেবা প্রদান করে।

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডিসপেন্সারী পরিচালনা করে থাকে যেগুলো বিভিন্ন সংক্রামক অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা প্রদান করে। নগরাঞ্চলে টিকাদান পরিবার পরিকল্পনা সেবার সকল প্রয়োজনীয় দ্রব্য (টিকা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহ) স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেসরকারি সংস্থাসমূহের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন বন্টন করে থাকে।

স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা সেক্টরের নীতিমালা তৈরি পূণর্গঠনের পদক্ষেপ স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ে থাকে। এছাড়া সেবার নীতিমালা প্রনয়ণ, চিকিৎসা শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ, ওষুধ তৈরি ব্যবস্থাপনার গুণগত মান মনিটরিং নিয়ন্ত্রণ, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহ নিয়ন্ত্রণ, এবং পেশাজীবীদের প্র্যাকটিস নিয়ন্ত্রণসহ নগর গ্রামাঞ্চলের সকল নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কাজের দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যাস্ত। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই দায়িত্বসমূহ পালন করে।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (মিউনিসিপ্যালিটি) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, নগরবাসীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা প্রদানের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যালিটির। হাসপাতাল ডিসপেন্সারির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় সিটি কর্পোরেশনে এসকল সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়াও, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্ট-এর অধীনে ১১টি সিটি কর্পোরেশন ৫টি মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় ১৬১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র, ২৪টি সমন্বিত প্রজনন স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র, ৬৪৪টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক, ২৪টি ভলান্টারি কাউন্সেলিং চিকিৎসাকেন্দ্র, ৯২টি প্রত্যক্ষ চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ২৪টি প্রাথমিক চক্ষুসেবা কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে অত্যাবশ্যকীয় সেবা দেয়া হচ্ছে। এগুলোর পাশাপাশি নগর এলাকায় বেসরকারি সংস্থাসমূহের বাস্তবায়নে দাতা সংস্থার অর্থায়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আরো কিছু কর্মসূচি চলছে। আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রজেক্ট, দি স্মাইলিং সান ফ্র্যানচাইজ প্রোগ্রাম, নগর বস্তিতে ব্র্যাক মানসী প্রোগ্রাম এবং বেসরকারি সংস্থার সেবাকেন্দ্রভিত্তিক কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচি যেগুলো বর্তমানে নগর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে, যেমন-মেরী স্টোপস ক্লিনিক। প্রাইভেট সেক্টরও এখানে গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার, ফার্মেসী প্রাইভেট ক্লিনিকের মাধ্যমে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্যান্য প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট হাসপাতাল, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং অনেক প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার। বস্তিবাসী প্রথমে স্বাস্থ্যসেবা নেয় ওষুধের দোকান থেকে; তারপর তারা যায় প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিকে।

 

অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস প্যাকেজ (ইএসপি) সেগুলোর উপাদানসমূহ

 

. মা, নবজাতক, শিশু কৈশোর স্বাস্থ্যসেবা

  • মা নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা:
    • মায়ের সেবা: গর্ভসঞ্চারের পূর্বে, গর্ভকালীন, প্রসবকালীন, প্রসব পরবর্তীকালীন;
    • নবজাতক সেবা: প্রসবের সময় প্রসবের পরে;
    • প্রসূতি নবজাতক সেবা।
  • শিশু স্বাস্থ্য টিকাদান:
    • ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব চাইল্ডহুড ইলনেস (আইএমসিআই);
    • এক্সপ্যান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনাইজেশন (ইপিআই)
  • কৈশোর স্বাস্থ্য:
    • কৈশোর যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য;
    • কৈশোরকালীন পুষ্টি;
    • কৈশোরকালীন মানসিক স্বাস্থ্য;
    • ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ।

 

. পরিবার পরিকল্পনা

  • গর্ভসঞ্চারপূর্ব;
  • প্রসবপরবর্তী;
  • গর্ভপাত-পরবর্তী;
  • এমআর-পরবর্তী।

 

. পুষ্টি

  • শিশু পুষ্টি: পুষ্টির অবস্থা নির্ণয়, অপুষ্টি প্রতিরোধ, অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা;
  • মায়ের পুষ্টি;
  • কৈশোর পুষ্টি।

 

. সংক্রামক রোগসমূহ

  • যক্ষ্মা;
  • ম্যালেরিয়া;
  • এইচআইভি/এইডস;
  • উপেক্ষিত গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় রোগসমূহ: কালাজ্বর, লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিস, কুষ্ঠ, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, কৃমি;
  • অন্যান্য সংক্রামক রোগ।

 

. অসংক্রামক রোগসমূহ

  • উচ্চ রক্তচাপ;
  • ডায়াবেটিস মেলাইটাস;
  • সম্পূর্ণ ঝুঁকি নির্ণয় করে অসংক্রামক রোগ স্ক্রিনিং ব্যবস্থাপনা;
  • ক্যান্সার: ব্রেস্ট, সারভাইক্যাল/জরায়ু মুখ;
  • অন্যান্য অসংক্রামক রোগ: আর্সেনিকোসিস, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD);
  • মানসিক স্বাস্থ্য;
  • যৌন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা/নির্যাতন (SGBV)

 

. অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের ব্যবস্থাপনা

  • চক্ষু সেবা;
  • কানের সেবা;
  • চর্ম সেবা;
  • জরুরী সেবা;
  • বার্ধক্যকালীন সেবা।

 

সহযোগিতামূলক (নন-ক্লিনিক্যাল) সেবা

. ল্যাবরেটরি;

. রেডিওলজি অন্যান্য ইমেজ ব্যবস্থা;

. খুচরা ওষুধের দোকান।

 

যেখানে অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস প্যাকেজ (ইএসপি) প্রদান করা হয়

. ব্যবহারকারীর বাড়িতে;

. স্যাটেলাইট ক্লিনিক আউটরিচ সেবা প্রদানের স্থানে;

. কমিউনিটি ক্লিনিকে;

. ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র (সম্মিলিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণকেন্দ্র) ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে;

. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে;

. জেলা হাসপাতালে;

. মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্র যা একা বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জেলা হাসপাতালের সাথে সমন্বিতভাবে সেবা দিতে পারে।

 

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ/মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস (এমডিজি)

বাংলাদেশ ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ/মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস শেষ করেছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রায় সকল সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় উন্নতি করেছে। আমরা এখন ২০১৫-পরবর্তী ২০৩০-এর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা/সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস বাস্তবায়ন করছি।

 

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা/সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি)

এটি ২০১৫-পরবর্তী স্বাস্থ্য বিষয়ক উন্নয়ন কার্যাবলী।

২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা/এসডিজি- ১৭টি লক্ষ্য গ্রহণ করে। সরাসরি স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা/এসডিজি- লক্ষ্যটি হচ্ছে 'সব বয়সের সকলের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা সুস্থতা/ স্বাস্থ্যকে উন্নীত করা'

 

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টর/ফার্মেসী সেক্টরে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী দপ্তর। The Drugs Act, ১৯৪০; The Drugs Act, ১৯৪৫; The Bengal Drugs Rules, ১৯৪৬; The Drugs (Control) Ordinance, ১৯৮২; The Drugs (Control) (Amendment) Ordinance, ১৯৮২: The Drugs (Control) (Amendment) Ordinance, ১৯৮৪; and Drugs (Control) (Amendment) Act, ২০০৬- সমূহের মাধ্যমে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তার দায়িত্বসমূহ পালন করে থাকে। কিছু বিশেষ অবস্থায়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ প্রয়োগ করে থাকে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আয়ুর্বেদিক, ইউনানী, ভেষজ হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থার ওষুধসহ সব ধরনের ওষুধ চিকিৎসা বিষয়ক যন্ত্রের আমদানি: কাচাঁমাল মোড়কীকরণের উপকরণসমূহ কেনা; সম্পূর্ণ তৈরি ওষুধের উৎপাদন; আমদানি, রপ্তানী, বিক্রয়, দাম নির্ধারণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে দেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অধীনে ৫৫টি জেলা অফিস আছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সকল অফিসার 'ড্রাগ ইন্সপেক্টর' হিসাবে ওষুধ আইন অনুসরণ করে এবং তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য অনুমতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে। এছাড়াও কয়েকটি কমিটি, যেমন ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটি, কাচামাল তৈরি ওষুধ আমদানির স্ট্যান্ডিং কমিটি, দাম নির্ধারণ কমিটি এবং আরো কয়েকটি প্রাসঙ্গিক কমিটি যেগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ দ্বারা গঠিত হয় তারা অনুমতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে ওষুধ মাদক বিষয়ক পরামর্শ দেন সুপারিশ করেন।

 

বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল: স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে, বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা। এই কাউন্সিল সব ধরনের ফার্মাসিস্টদের (গ্রেড , গ্রেড বি গ্রেড সি) রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকে। ফার্মেসী শিক্ষা পেশার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল। কাউন্সিলের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশে ফার্মেসী প্র্যাকটিসকে নিয়ন্ত্রণ করা।

 

ওষুধের উৎস

. স্থানীয় উৎপাদন: ৯৫-৯৮%

. আমদানি: -%

 

ফার্মাসিউটিক্যাল বিন্যাস

. সরকারি

) সিএমএসডি- মাধ্যমে ক্রয় বন্টন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) অধীনে সকল ধরনের ওষুধ, চিকিৎসা বিষয়ক অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করা, গ্রহণ করা, স্টোর বন্টন করার ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো মূল দায়িত্ব পালন করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্যান্যদের এবং দুর্যোগ জরুরী অবস্থায় সিএমএসডি সহায়তা দিয়ে থাকে।

) হাসপাতাল ইন্সটিটিউট দ্বারা সরাসরি ক্রয় করা।

. প্রাইভেট

প্রাইভেট সেক্টরে সারা দেশে ওষুধ বন্টনের জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো মেনে চলা হয়:

  • উৎপাদকের কাছ থেকে হাসপাতাল খুচরা ওষুধের বাজারে সরাসরি বণ্টন;
  • উৎপাদকের কাছ থেকে পাইকারী খুচরা বিক্রেতার কাছে বা হাসপাতালে সরাসরি বন্টন;
  • পাইকারী থেকে খুচরা বিক্রেতা।

 

No comments:

Post a Comment

Q40 (L6 M3S2)

 Q40  (L6 M3S2)  (PCB 64 batch Grade-C certificate registration exam preparation)   নিচে দেওয়া লিঙ্কটিতে ঢুকে  কুইজ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করুন।...