Lecture ৮: (মডিউল-৪, সেশন-১-১০): ওষুধ ব্যবস্থাপনা (পৃষ্ঠা ৮২ - ১৬৮)
Lecture Module Sponsored by:
ড. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
Admission going on: Pharmacy (Tk. 4,01,000/-)
BBA (Tk. 2,98,100/-), Biochemistry (Tk. 3,66.700/-),
CSE (Tk. 3,50,800/-), EEE (Tk. 3,59,000/-),
Food & Nutrition (Tk. 3,53,000/-),
Lecture ৮: (মডিউল-৪, সেশন-১-১০): ওষুধ ব্যবস্থাপনা (পৃষ্ঠা ৮২ - ১৬৮)
ওষুধ ব্যবস্থাপনার মূলনীতি
সেশন-১: ওষুধ ব্যবস্থাপনার মূলনীতি
ওষুধ ব্যবস্থাপনা হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বা কৌশল যা প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঠিক পরিমাণে সংগ্রহে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়
উন্নত ওষুধ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা:
মডেল মেডিসিন শপে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের যথাযথ সরবরাহ;
মডেল মেডিসিন শপে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের সঠিক মজুদ;
প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সবসময় সঠিক দামে সরবরাহ করা;
কেবলমাত্র মানসম্মত ওষুধপত্রই সরবরাহ করা;
সঠিকভাবে ওষুধপত্র ডিসপেন্স করা যাতে রোগী বা গ্রাহকগণ সঠিক মাত্রায় সঠিক ওষুধ গ্রহণ করতে পারে
।
ওষুধ ব্যবস্থাপনা চক্র
ওষুধ ব্যবস্থাপনা চক্রের ৫টি ধাপ আছে
ওষুধ নির্বাচন;
ওষুধ ক্রয়;
ওষুধ গ্রহণ;
ওষুধ ডিসপেন্সিং;
ওষুধ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা
।
১. ওষুধ নির্বাচন
একটি মডেল মেডিসিন শপে যে সকল ওষুধসমূহ ক্রয় করা এবং মজুদ করা হবে সেগুলোর প্রকার এবং পরিমাণ সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর নির্ভর করে:
চিকিৎসকগণ ব্যবস্থাপত্রে যে সকল ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন;
রোগী বা গ্রাহকগণ সরাসরি যে সকল ওষুধপত্র (OTC) দোকান থেকে ক্রয় করে থাকেন;
পরিবেশগত কারণ যেমন: কলেরার প্রাদূর্ভাব হলে ব্লিচিং পাউডার বেশি করে মজুদ করা প্রয়োজন;
ওষুধ কেনার প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করা;
প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের বর্ধিত তালিকা
।
টীকা:
সঠিক ওষুধ নির্বাচন এবং ক্রয়ের মাধ্যমে ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকি কমানো নিশ্চিত হয়।
মডেল মেডিসিন শপের জন্য কেবলমাত্র সেই সকল Prescription only এবং Over-the-Counter (OTC) ওষুধসমূহ নির্বাচন করতে হবে যেগুলো রোগী বা গ্রাহকগণ নিয়মিত/প্রতিনিয়ত কিনে থাকেন।
২. ওষুধ ক্রয়
উৎপাদক বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহের প্রক্রিয়াই হলো ওষুধ ক্রয়। মডেল মেডিসিন শপের একজন ডিসপেন্সার ওষুধ ক্রয়ের পূর্বে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করবেন:
যে সকল ওষুধ ক্রয় করবেন তার সঠিক তালিকা ও পরিমাণ;
ঐ সকল ওষুধ কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ।
সঠিক ওষুধ ক্রয়ের বেশকিছু ধাপ রয়েছে—
কি কি ওষুধ ক্রয় করতে হবে তা নির্ধারণ করা
কি কি ওষুধ কিনতে হবে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে:
কোন ধরনের রোগী এই মেডিসিন শপ থেকে দৈনিক/নিয়মিত সেবা নেন;
কি ধরনের ওষুধ সেবন/গ্রহণ করেন;
এলাকা ভিত্তিক রোগসমূহের ধরন;
ওষুধ কেনার পরিমাণ;
ওষুধ মজুদ করার সক্ষমতা;
ওষুধ ক্রয়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য তহবিল;
মডেল মেডিসিন শপ থেকে পাইকারী সরবরাহকারীর দূরত্ব।
টীকা: উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখলে যে কোন ওষুধের অতিরিক্ত মজুদ জমে থাকা বা ঘাটতির সম্ভাবনা এড়ানো যাবে।
কি পরিমাণ ওষুধ কেনা হবে তা নির্ধারণ করা
এটি একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কি পরিমাণ ওষুধ প্রয়োজন হবে তা নির্ধারণ করা যাবে (যেমন-এক সপ্তাহের জন্য):
এটা বিগত সপ্তাহের ওষুধ ডিসপেন্সিং এর পরিমাণের উপর নির্ভর করতে পারে;
আগে কি পরিমাণ ওষুধ ডিসপেন্সিং বা বিক্রয় হয়েছে সে তথ্য বিক্রয় রেজিস্টার বা ওষুধ বিক্রয়ের রশিদসমূহ পর্যালোচনা করে সংগ্রহ করা যেতে পারে।
অনুশীলনীর উদাহরণ: অনুশীলনী-১: এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের পরিমাণ নির্ধারণ করা
পরিস্থিতি:
হোসেন মডেল মেডিসিন শপ গড়ে প্রতিদিন ৬ বাক্স প্যারাসিটামল ট্যাবলেট/বড়ি বিক্রয় করে।
মডেল মেডিসিন শপের মালিক প্রতি সোমবার মডেল মেডিসিন শপের জন্য ওষুধ ক্রয় করেন।
এক সপ্তাহের জন্য মডেল মেডিসিন শপের মালিক কি পরিমাণ প্যারাসিটামল ট্যাবলেট মজুদ রাখবেন?
প্রক্রিয়া:
প্রতিদিন গড়ে যে পরিমাণ ওষুধ বিক্রয় হয় তাকে সপ্তাহে যে কয়দিন দোকান খোলা থাকে সে সংখ্যা দিয়ে গুণ করতে হবে।
উত্তর:
১ সপ্তাহের জন্য ৪২ প্যাকেট/বাক্স।
কোথা থেকে ওষুধ সংগ্রহ করা হবে
নিম্নের যে কোন প্রক্রিয়ায় ওষুধ সংগ্রহ করা যেতে পারে:
ওষুধ কোম্পানিগুলো থেকে সরাসরি সরবরাহের মাধ্যমে;
লাইসেন্সধারী পাইকারী ওষুধ বিক্রেতার নিকট থেকে;
লাইসেন্সধারী আমদানিকারকের নিকট থেকে;
(প্রসাধনী সামগ্রীর ক্ষেত্রে) লাইসেন্সধারী প্রসাধনী উৎপাদনকারী কোম্পানি বা পাইকারী বিক্রেতার কাছ থেকে;
লাইসেন্সধারী সাধারণ ব্যবসায়ী/পাইকারী বিক্রেতা যাদের নিকট থেকে গ্লুকোজ পাউডার, ব্লিচিং পাউডার বা সাধারণ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করা যেতে পারে।
লাইসেন্সধারী প্রস্তুতকারক বা সরবরাহকারীর কাছে থেকে পণ্য ক্রয়ের সুবিধাসমূহ:
পণ্যসমূহ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাওয়া যায়;
ভেজাল বা নকল পণ্য বা ওষুধ কেনার ঝুঁকি কমে;
পণ্যসমূহে সমস্যা দেখা দিলে তা পরিবর্তন করা যায়;
পণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে তা ফেরত দেয়া বা বদলে ফেলা যায়।
টীকা: ফেরিওয়ালা বা মুদিদোকান থেকে কখনো ওষুধ কেনা উচিৎ নয় কারণ তাতে চুরি করা বা নকল ওষুধ কেনার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।
ক্রয়কৃত ওষুধ গ্রহণ করা/বুঝে নেয়া
সাধারণতঃ ওষুধ সরবরাহকারী/ প্রস্তুতকারী কোম্পানি ওষুধসমূহ দোকানে পৌঁছে দেন। তবে কখনো কখনো মডেল মেডিসন শপের মালিক বা তার কর্মচারিগণকে কোম্পানির বিক্রয়কেন্দ্র থেকেও মালামাল সংগ্রহ করতে হয়। উভয় ক্ষেত্রেই আদেশ তালিকার সাথে মিলিয়ে সরবরাহকৃত মালামালের গুণগত মান, পরিমাণ ইত্যাদি সঠিকভাবে বুঝে নেয়া উচিত। এর জন্য নিম্নলিখিত চেকলিস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে:
| চেকলিস্ট | মন্তব্যসমূহ |
| সরবরাহকৃত পণ্যের পরিমাণ আদেশপত্রের সাথে মিলিয়ে নিন | • আদেশপত্রে যে পরিমাণ ওষুধ উল্লেখ করা ছিল তার সরবরাহের রশিদের সাথে মিলিয়ে নিন। • অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী আপনার চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এ ধরনের কাজ সাধারণত যে সকল পণ্যের চাহিদা কম সে ক্ষেত্রেই বেশি ঘটে। • আপনি শুধু সেগুলোই গ্রহণ করুন যেগুলোর জন্য আপনার চাহিদা এবং বাজেট রয়েছে। • অস্বাভাবিক কম মূল্য বা অতিরিক্ত কমিশনের লোভে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য মজুদ করবেন না। |
| ওষুধের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লক্ষ্য করুন | • সরবরাহকৃত প্রতিটি পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ভালোভাবে খেয়াল করুন। • ওষুধের গায়ে এবং বাক্সের গায়ে লিখিত মেয়াদ মিলিয়ে দেখে উভয় তারিখ একই তা নিশ্চিত হোন। • যে সকল পণ্যের মেয়াদ শীঘ্রই উত্তীর্ণ হয়ে যাবে তার মূল্য কম হলেও তা গ্রহণ করবেন না। • যে সকল ওষুধের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেয়া নেই সেগুলো গ্রহণ করবেন না। কারণ, সেগুলো নকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। |
| সরবরাহকৃত ওষুধের প্যাকেজিংগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করুন | • প্যাকেটে বা বাক্সে কোন বোতল ভাঙ্গা আছে কিনা তা চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। • এমন কোন ওষুধ গ্রহণ করবেন না, যেগুলোর লেবেল বা প্যাকেটের কোথাও দাগ লেগে আছে। |
| ওষুধের ট্রেড নাম মিলিয়ে নিন | • সরবরাহকৃত ওষুধগুলোর নাম এবং আপনার আদেশপত্রের নামগুলো মিলিয়ে নিন। • কোন কোন ক্রেতা কোন কোন বিশেষ নামের ওষুধ পছন্দ করেন, সেক্ষেত্রে যতক্ষণ না আপনার স্টক ফুরিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ আপনার রোগী বা গ্রাহকের পছন্দকে গুরুত্ব দিন। • অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অনেক সময় ওষুধের নাম এবং ট্রেডের পরিবর্তনের জানানোর পদক্ষেপ নেয় না, তাই আপনি সতর্কতার সাথে মিলিয়ে নিন। |
| ওষুধে স্ট্রেন্থ (Strength) ও পরিমাণ মিলিয়ে নিন | • আপনি যে স্ট্রেন্থসম্পন্ন ওষুধের আদেশ জানিয়েছিলেন সে অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়েছে কিনা তা মিলিয়ে নিন। • এটির মাধ্যমে ভুল স্ট্রেন্থ এর ওষুধ নেয়া থেকে বাঁচা যাবে। (যেমন বড়দের ওষুধের স্থলে বাচ্চাদের ওষুধ সরবরাহ করা ইত্যাদি)। |
ওষুধের স্থানান্তর
প্রতিকূল পরিবেশ যেমন- সরাসরি সূর্যালোক, উচ্চ তাপমাত্রা, পানি অথবা ধুলাবালিতে ওষুধ উন্মুক্ত হলে তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়;
স্থানান্তরের আগে এবং পরে সকল ওষুধই সঠিকভাবে প্যাকেট করতে হবে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত হয়ে ওষুধের মান ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।
ওষুধের মূল্য নির্ধারণ
ওষুধের মূল্য যেহেতু ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক পূর্বেই নির্ধারণ করা থাকে তাই এক্ষেত্রে মডেল মেডিসিন শপের করণীয় হল সঠিক মূল্যে বিক্রয় করা।
টীকা: ওষুধে বা তার প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরামূল্য নির্দেশ/উল্লেখ করুন এবং আদেশ তালিকাতেও লিপিবদ্ধ করুন। ওষুধের মূল্য মুখস্থ রাখার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন এবং ক্রেতাকেও তা জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দিবেন না। এতে মূল্য বলার ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে এবং আপনি গ্রাহকের আস্থা হারাতে পারেন।
সেলফে ওষুধ সাজানো
ওষুধসমূহ এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে ডিসপেন্সিং এর জন্য সহজেই তা খুঁজে পাওয়া যায়। সেলফে বা তাকে নিম্নের বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্নভাবে সাজিয়ে রাখুন:
নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী (জেনেরিক নামের ভিত্তিতে);
ওষুধের ডোজেস ফরম অনুযায়ী (যেমন: ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল, সিরাপ বা সাসপেনশন থেকে আলাদা);
রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োগ অনুসারে, যেমন: এন্টিবায়োটিক, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক, ব্যথার ওষুধ ইত্যাদি, এটিই সবচেয়ে কার্যকর প্রক্রিয়া যা সহজেই অনুসরণ করা যায়;
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ইনজেকশনসমূহ এবং চর্মরোগের ওষুধসমূহের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা উচিত;
মডেল মেডিসিন শপের একটি অংশ প্রাথমিক ও অন্যটি দ্বিতীয় পর্যায়ের হওয়া আবশ্যক।
টীকা: সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য তাকের উপর সকল ওষুধ এমনভাবে রাখা উচিত যাতে ওষুধ বা ওষুধের লেবেল এবং নাম পরিষ্কারভাবে দেখা যায় এবং পড়া যায়।
সেবনের ধরনের উপর ভিত্তি করে তাক/সেলফে সাজানোর তালিকা:
| তাক/ সেলফ | ওষুধের ধরন | মন্তব্যসমূহ |
| উপরের তাক | ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, হালকা সামগ্রী যা একটু বেশি জায়গা নেয়, যেমন- সিরিঞ্জ তুলা ইত্যাদি। | যেসকল ওষুধ সাধারণত কম ডিসপেন্সিং করা হয়। যে সকল ওষুধ তাপ সহ্য করতে পারে না সেগুলি নয়। |
| মাঝের তাক | সিরাপ, মুখে খাওয়ার সাসপেনশন ইত্যাদি যেমন: এমোক্সিসিলিন, ম্যাগনেসিয়াম ট্রাই সিলিকেট মিক্সচার ইত্যাদি। | এই তাকে সলিড ওষুধ যেমন- ট্যাবলেট, ক্যাপসুল রাখা যাবে তবে তা তরল ওষুধের নিচে রাখা যাবে না, এতে কোন বোতল ভেঙ্গে গেলে অন্য ওষুধ নষ্ট হবে না। |
| নিচের তাক | ভারী এবং বড় সাইজের পণ্য যেমন- জীবাণুনাশক বা এর কোন তরল উপস্থাপনা, ত্বকে ব্যবহারের ক্রিম বা মলম ইত্যাদি। | সরাসরি মেঝেতে কোন ওষুধ রাখা বাঞ্ছনীয় নয়। |
সঠিক বিন্যাসের সুফলসমূহ:
সহজ ডিসপেন্সিং নিশ্চিত করে;
ওষুধ কি পরিমাণ মজুদ আছে তা বুঝতে সাহায্য করে;
সবকিছু পরিবর্তন না করে নতুন ওষুধের মজুদ যোগ করতে সাহায্য করে;
দক্ষ কর্মীকে দোকানের ওষুধের মজুদের অবস্থান এবং তাদের বিক্রয় ও ব্যবহার বুঝতে সহায়তা করে।
ওষুধ সংরক্ষণ
ওষুধসমূহ এমন একটি নিরাপদ ও সুবিধাজনক স্থানে রাখতে হবে যাতে চুরি না হয় এবং ওষুধের গুণগত মানের ক্ষতি বা অবনতি না হয় (কার্যকারিতা নষ্ট না হওয়া)। ওষুধপত্রসমূহ সংরক্ষণ করতে হবে:
একটি কক্ষে বা আলমারিতে যা তালা দিয়ে বন্ধ করা যায় এবং শুধুমাত্র উপযুক্ত কর্মীগণকে প্রবেশাধিকার দেয়া;
তাক নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং ধুলা ময়লা জমতে না দেয়া;
আলো থেকে দূরে, ঠাণ্ডা এবং শুকনো স্থানে/পরিবেশে রাখা।
প্রস্তুতকারک প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ওষুধসমূহ সংরক্ষণ করতে হবে। মেডিসিন শপে ওষুধ সংরক্ষণে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রভাব ফেলে:
তাপমাত্রা;
আর্দ্রতা;
সরাসরি সূর্যালোক;
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা।
সংরক্ষণের দিক নির্দেশনা:
ওষুধসমূহ পরিষ্কার, নিরাপদ এবং সবসময় পরিচর্যা করা হয় এমন সেলফে রাখুন;
ওষুধসমূহকে সরাসরি আলো এবং তাপ থেকে নিরাপদ রাখুন;
ওষুধসমূহকে পোকামাকড় বা ইঁদুর থেকে দূরে একটি শুকনো ও শীতল স্থানে রাখুন;
যে ওষুধসমূহের মেয়াদ অল্প সেগুলো তাকের সামনের দিকে রাখুন এবং দীর্ঘ মেয়াদসম্পন্ন ওষুধগুলো তাকের পিছনদিকে রাখুন [প্রথম মেয়াদোত্তীর্ণ প্রথম ডিসপেন্সিং (FEFO) পদ্ধতি];
যে সকল ওষুধ ওজনে হালকা সেগুলো উপরের তাকে এবং ভারী ওষুধগুলো নিচের তাকে রাখুন;
যে প্রয়োজনে ওষুধসমূহ ব্যবহার হয় সে অনুযায়ী তাকের উপর সাজিয়ে রাখুন (এন্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ইত্যাদি);
সবগুলো তাকে লেবেলিং করুন যাতে ওষুধসমূহ সহজে খুঁজে পাওয়া যায়;
মডেল মেডিসিন শপে বা গুদামে যাতে পোকামাকড় বা ইঁদুর ঢুকতে না পারে সেজন্য সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন;
সকল বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট যেমন- ইনসুলিন, ভ্যাকসিনসমূহ ইত্যাদি রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করুন;
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী সকল ইনজেকশনসমূহের এবং চর্মরোগের জন্য মডেল মেডিসিন শপে বা গুদামে নির্ধারিত আলাদা স্থান থাকা দরকার।
সফলভাবে ওষুধপত্র ও অন্যান্য পণ্য সাজানোর জন্য এবং ওষুধের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি মডেল মেডিসিন শপে নিম্নলিখিত কাজগুলো করা প্রয়োজন:
যে সকল ওষুধ ডিসপেন্স করা হয়েছে তার একটি সঠিক নথি রাখা উচিত যা ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশন) মাধ্যমেই হোক বা অন্য কোন ভাবে;
যে সকল ওষুধপত্র কেনা হয়েছে তারও একটি সঠিক নথি রাখা প্রয়োজন;
ওষুধের মজুদ মনিটর করা।
ওষুধের যে মজুদ আছে এবং যা থাকা প্রয়োজন তা নির্দিষ্ট সময়ের বিরতিতে যেমন প্রতিমাসে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এটি করতে হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা উচিত:
বর্তমানে ওষুধের মজুদের পরিমাণ গণনা করা;
কি পরিমাণ মজুদ থাকা উচিত ছিল তা নথি থেকে মিলিয়ে দেখা;
যদি কোন পার্থক্য থাকে তার কারণ নির্ধারণ করা।
মজুদ ব্যবস্থাপনা উপকরণসমূহ
| Tools/নথি | কার্যকারিতা/ উপযোগিতা |
| শূন্য মজুদের নথি | • এখানে যে সকল ওষুধপত্রের কোন মজুদ নাই সেগুলো তালিকাভুক্ত করতে হবে। • মজুদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে নির্দেশনা পেতে সাহায্য করে। |
| ক্রয় আদেশ নথি | • প্রস্তুতকারک বা সরবরাহকারীদের নিকট থেকে কি কি ওষুধ কেনা হয়েছে তা নথি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। • কি পরিমাণ টাকার ওষুধপত্র কেনা হয় তা জানা যায়। |
| মেডিসিন শপে যে পরিমাণ ওষুধ বিক্রয় হয়েছে তার নথি | • কি পরিমাণ টাকার ওষুধ বিক্রয় হয়েছে তা জানা যাবে। • প্রতিদিন কি পরিমাণ টাকার ওষুধ বিক্রয় হয় তা মনিটর করা যায়। |
| বাকীর খাতা | • এতে যে সকল রোগী বা গ্রাহক বাকীতে ওষুধ নিয়েছেন তার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়। • কারা সঠিকভাবে পাওনা পরিশোধ করছে না তাদের চিহ্নিত করা যায়। |
| ওষুধের মেয়াদোত্তীর্ণ সম্পর্কিত নথি | • ওষুধপত্রের নাম, পরিমাণ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নথিভুক্ত থাকে। • মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের মূল্য হিসাব করতে সহায়তা করে। • মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসমূহ প্রস্তুতকারক বা সরবরাহকারীকে ফেরত দিতে সাহায্য করে। |
| ওষুধ ডিসপেন্সিং এর নথি | • যে সকল ওষুধ ডিসপেন্সিং করা হয়েছে তার নথি (ওষুধের নাম, ডোজ, ডোজেস ও পরিমাণ এবং তার সাথে রোগীর নাম ও বয়স নথিভুক্ত করা হয়)। |
সেশন-২: ডিসপেন্সিং
ওষুধ সঠিকভাবে ডিসপেন্সিং মানে শুধুমাত্র রোগী বা গ্রাহককে ওষুধ দেয়া নয়;
ওষুধ ডিসপেন্সিং মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সর্বশেষ ধাপ যেখানে রোগী/গ্রাহক সেবাদানকারী ডিসপেন্সারের সাথে মুখোমুখি হন;
ডিসপেন্সিং এর উপরে অনেকসময় রোগীর বা গ্রাহকের চিকিৎসার ফলাফল নির্ভর করে। অর্থাৎ রোগী ভালো হবে কিনা বা কত দ্রুত ভাল হবে তা সঠিক ডিসপেন্সিং এর উপর নির্ভর করে।
ওষুধ ডিসপেন্সিং-এর সাথে সম্পৃক্ত শব্দাবলি
| শব্দাবলি | সংজ্ঞা |
| ডিসপেন্সিং | এটি একটি প্রক্রিয়া যার মাধমে রোগী বা গ্রাহককে ওষুধপত্র দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ থেকে শুরু করে রোগী বা গ্রাহককে নির্ধারিত ওষুধপত্র বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত বুঝায়। |
| ডিসপেন্সার | একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোগ্য ব্যক্তি যিনি রোগী/রোগীর সেবাদানকারীকে ওষুধপত্র ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ডিসপেন্স করার জন্য অনুমোদিত। |
| ব্যবস্থাপত্র | একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক লিখিত নির্দেশনা যা ডিসপেন্সারকে রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেয়। |
| ব্যবস্থাপত্র প্রদানকারী | একজন শিক্ষিত চিকিৎসক যিনি রোগীকে ওষুধপত্র প্রদানের জন্য আইনগতভাবে অনুমোদিত। |
| ওষুধপত্র | একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক রোগীকে রোগ নিরাময়ের জন্য যে পথ্য/উপাদান এবং অবশ্য পালনীয় পরামর্শ দেন সেগুলো সাধারণভাবে ওষুধপত্র হিসাবে বিবেচিত হয়। |
| চিকিৎসা সামগ্রী | এর মধ্যে আছে গ্লাভস, সিরিঞ্জ ইত্যাদি যা রোগীর রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। |
| শুধুমাত্র ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে বিক্রয়যোগ্য ওষুধ (Prescription only Medicine) | এই সকল ওষুধ কেবলমাত্র একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের দ্বারা লিখিত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে বিক্রয় করা যাবে। অন্যথায় বিক্রয়যোগ্য নয়। |
| ওটিসি ওষুধসমূহ (OTC) | এ সকল ওষুধ ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই রোগী বা গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিক্রয় করা যাবে, যেমন: প্যারাসিটামল। |
ভাল ওষুধ ডিসপেন্সিং এর শর্তাবলি
রোগী বা গ্রাহককে সঠিক ডোজ এ সঠিক ওষুধ প্রদান।
যথাযথ পাত্রে বা মোড়কে যথাযথ পরিমাণ ওষুধ প্রদান।
রোগী/গ্রাহক বা সেবাদানকারীকে ওষুধের সঠিক সেবনবিধি/ব্যবহারবিধি সম্পর্কে পূর্ণ নির্দেশনা প্রদান।
পাঁচটি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন:
সঠিক ওষুধ;
সঠিক ডোজ;
সঠিক পরিমাণ;
সঠিক পাত্র/কন্টেইনার;
সঠিক সেবনবিধি/নির্দেশনা।
একজন ভাল ডিসপেন্সারের গুণাবলি
ওষুধপত্র এবং সাধারণ রোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা;
ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারা;
রোগী/গ্রাহক/ক্রেতাদের ভালো সেবা দিতে পারা;
সুন্দর করে/দক্ষভাবে লিখতে পারা;
কাজ গুছিয়ে করতে পারা;
সততা ও পেশাদার আচরণ করতে সক্ষম;
সঠিকভাবে কাজ করার মনোভাব থাকা।
ডিসপেন্সিং প্রক্রিয়া
ব্যবস্থাপত্রটি ভালোভাবে পড়ুন, পর্যালোচনা করুন এবং অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন;
ওষুধগুলো ডিসপেন্সিং এর জন্য সংগ্রহ করুন;
পাত্র বা মোড়কে লেবেলটি প্রিন্ট করুন/এঁটে দিন;
ওষুধের পরিমাণ ও তার মূল্য হিসাব করুন এবং বিল প্রস্তুত করুন;
ব্যবস্থাপত্রটি আবার পড়ুন এবং ওষুধগুলো মিলিয়ে নিন;
ওষুধগুলো প্যাকেটে ভরে নিন;
রোগীকে ওষুধগুলো বুঝিয়ে দিন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ জানিয়ে দিন;
ডিসপেন্সিং রেকর্ড রেজিস্টারে সংরক্ষণ করুন।
ডিসপেন্সিং প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ধাপসমূহ
১. ব্যবস্থাপত্রটি পড়ুন, পর্যালোচনা করুন এবং বুঝুন
ব্যবস্থাপত্রটি বৈধ কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হোন;
ব্যবস্থাপত্রটি সঠিকভাবে বুঝে নিন (যেমন: ব্যবস্থাপত্রে যে সকল শব্দসংক্ষেপ ব্যবহার করা হয় তার তালিকা দেখে নিন);
যদি আপনি চিকিৎসকের লেখা পড়তে না পারেন তবে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন;
ওষুধের ডোজ, ডোজেস ফরম এবং কতদিন সেবন/ব্যবহার করতে হবে তা আবারো ভালোভাবে দেখে মিলিয়ে নিন;
আপনি নিশ্চিত না হলে আবারো জিজ্ঞাসা করুন যাতে আপনি কি ডিসপেন্স করছেন তা বুঝতে পারেন;
যদি দেখেন যে একই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ৩ বার বা তার বেশি ওষুধ নেয়া হচ্ছে তবে রোগী বা গ্রাহককে পুনরায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুরোধ করুন।
ব্যবস্থাপত্র পড়ার চেকলিস্ট:
ব্যবস্থাপত্রটির তারিখ চেক করুন: ব্যবস্থাপত্রটি কবে দেয়া হয়েছে, তা পুরানো কিনা বা এখনো ব্যবহার্য কিনা তা বুঝা যাবে।
কাকে বা কার নামে ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়েছে তার পরিচয় নিশ্চিত করুন: ব্যবস্থাপত্রের ওষুধপত্র সঠিক রোগী/গ্রাহককে পৌঁছানো নিশ্চিত করে এবং তাদের ভুল ওষুধ বা অন্য রোগীর ওষুধ দেয়ার মত ভুল থেকে বিরত রাখে।
ওষুধের নাম ও ডোজেস ফরম সম্পর্কে নিশ্চিত হোন: রোগীকে সঠিক ওষুধ দিতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত ডোজ প্রদান থেকে বিরত থাকা যায়। সঠিক স্ট্রেন্থ এর ওষুধ নির্বাচন করতে সহায়তা করে।
রোগীর বয়স এবং শরীরের ওজন পুনরায় মিলিয়ে নিন: সঠিক ডোজ এর ওষুধ দিতে সহায়তা করবে। যে সকল কারণে সেবন/ব্যবহার করা উচিত নয় তা চিহ্নিত করতে বা ভুল শুধরে নিতে সহায়তা করে।
রোগীর কাছ থেকে রোগ সম্পর্কে জেনে নিন: ওষুধ কেন দেয়া হলো তা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। ওষুধের সঠিক ডোজেস নির্ধারণে ও চিকিৎসা কতদিন ধরে চলবে সেটি নিশ্চিতহতে সহায়তায় করে।
ব্যবস্থাপত্রে লিখিত ওষুধসমূহের পারস্পরিক বিক্রিয়া এবং সেবনের ক্ষেত্রে কোন নিষেধ থাকলে তা ভালোভাবে দেখে নিন: কোন রোগী বা গ্রাহককে কোন ভুল ওষুধ দেয়া থেকে বিরত রাখে। ব্যবস্থাপত্রের ওষুধসমূহের মধ্যে পারস্পরিক কোন জ্ঞাত বিক্রিয়া না থাকলে রোগীর চিকিৎসা ভালো হয়। এর দ্বারা রোগীর কোন ক্ষতি বা জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা কমে।
একটি আদর্শ ব্যবস্থাপত্রে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো থাকা উচিত:
যে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবস্থাপত্রটি দেয়া হয়েছে তার নাম;
রোগীর নাম ও বয়স;
তারিখ;
যিনি ওষুধসমূহ লিখেছেন তার নাম, পদবী ও স্বাক্ষর থাকবে (শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করা উচিত);
ওষুধসমূহের নাম;
ওষুধের ডোজেস ফরম;
ওষুধের ডোজ, কখন এবং দিনে কতবার সেবন করবে;
চিকিৎসা কতদিন চলবে।
ওষুধের জেনেরিক নাম ও ট্রেড/ব্যবসায়িক নাম
আমাদের দেশে সাধারণত রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধসমূহ ট্রেড/ব্যবসায়িক নামে লেখা হয় তবে ট্রেড/ব্যবসায়িক নামের সাথে জেনেরিক নাম লেখা হলে আরো ভালো হতো, যেমন নাপা (প্যারাসিটামল)। জেনেরিক নামসমূহ আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেয়া হয়ে থাকে। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই কোন একটি ওষুধের একই জেনেরিক নাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
জেনেরিক নামের উদাহরণ:
প্যারাসিটামল;
কুইনাইন;
ডাইক্লোফেনাক;
মেবেনডাজল;
মেট্রোনিডাজল;
লুমিফেনট্রিন;
সিপ্রোফ্লোক্সাসিন;
জেন্টামাইসিন।
ওষুধসমূহের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের প্রস্তুতকৃত ওষুধের ট্রেড/ব্যবসায়িক নামকরণ করেন। ট্রেড/ব্যবসায়িক নামসমূহ সাধারণত ছোট হয়, সহজে মনে রাখা যায় এবং লেখা যায় এবং এর মাধ্যমে চিকিৎসকগণকে ট্রেড/ব্যবসায়িক নামগুলো জেনিরিক নামের চাইতে বেশি বেশি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে।
ট্রেড/ব্যবসায়িক নামের উদাহরণসমূহ:
প্যারাসিটামল: নাপা (বেক্সিমকো), এইস (স্কয়ার), এক্সপা (এরিস্টোফার্মা)
আরটিমেথার/লুমিফ্যানট্রিন: লুমারটেম (স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড)
কুইনাইন: জি-কুইনাইন (গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড)
এমোক্সিসিলিন: এমোক্সিল (গ্ল্যাক্সোস্মিথ ক্লিন (বাংলাদেশ) লিমিটেড)
২. ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধসমূহ সরবরাহের জন্য একত্রিত করা
যে সকল ওষুধ ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে সেগুলোর নামগুলো ভালোভাবে কয়েকবার মিলিয়ে নিন;
যে ওষুধ সেবনের জন্য লেখা হয়েছে সেটির স্ট্রেন্থ সম্পর্কে নিশ্চিত হউন;
যে পরিমাণ ওষুধ সেবন/ব্যবহার করতে হবে তা সংখ্যা/পরিমাণ এবং কয়দিন সেবন/ব্যবহার করতে হবে তা ভালো করে দেখে নিন;
ওষুধের পাত্রটি ভালোভাবে মুছে পরিষ্কার করে নিন এবং মেয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত হোন;
কখনোই ওষুধকে তার পাত্র বা মোড়কের সাইজ, রং বা আকার দেখে চেনার চেষ্টা করবেন না কারণ অনেক ওষুধই দেখতে প্রায় একই রকম।
ডিসপেন্সিং এর জন্য ওষুধ সংগ্রহ করার ধাপ ও সতর্কতার ব্যাখ্যা:
ওষুধের নাম ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন: ভুল ওষুধ দেয়ার হাত থেকে বেঁচে থাকা যায়। বিশেষ করে যেগুলো প্রায় একই ধরনের নাম বা দেখতেও প্রায় একই রকম।
ওষুধের স্ট্রেন্থ ভালোভাবে দেখে মিলিয়ে নিন: এতে করে কোন শিশুকে পূর্ণবয়স্ক লোকের জন্য প্রযোজ্য স্ট্রেন্থ ওষুধ বা পূর্ণবয়স্কদের শিশুর জন্য প্রযোজ্য স্ট্রেন্থ ওষুধ দেয়ার মত ভুল ঠেকানো যায়।
ওষুধ সেবনের/ব্যবহারের পরিমাণ এবং সময়ের পার্থক্য সম্পর্কে নিশ্চিত হোন: এতে করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা কম ওষুধ প্রদানের মত বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় না। (টীকা: ওষুধ দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ওষুধ ভালোভাবে হিসাব করে নিন)
মোড়কের গায়ে বর্ণিত মেয়াদের তারিখ দেখে নিন: এই ধাপটি সকল সময় সতর্কতার সাথে মেনে চলা উচিত। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আইনগত ঝামেলা বা জটিলতায় জড়ানোর হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
কখনো কোন ওষুধকে তার পাত্র বা মোড়কের রং, আকার বা সাইজ দেখে চেনার চেষ্টা না করা: এতে ভুল ওষুধ ডিসপেন্সিং করা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অনেক ওষুধই দেখতে প্রায় একই রকম থাকে।
৩. যে পাত্রে বা মোড়কে ওষুধ সরবরাহ করা হবে তার লেবেল
লেবেলে রোগীর নাম লিখুন;
লেবেলে ওষুধের নাম লিখুন এবং স্ট্রেন্থ উল্লেখ করুন;
লেবেলে ওষুধ সেবনের সময় নির্দেশনা উল্লেখ করুন;
দিনে কতবার ওষুধ সেবন করতে হবে তা লেবেলে উল্লেখ করুন;
ওষুধগুলো প্যাকেটে ঢোকাবার পূর্বেই লেবেল লেখা সম্পন্ন করুন;
রোগী বা গ্রাহক সহজে বুঝতে পারে এমন ভাষা ব্যবহার করুন;
সম্ভব হলে সংক্ষেপে লেখা পরিহার করুন।
লেবেলিং এর চেকলিস্ট:
রোগী/গ্রাহকের নাম: রোগীকে তার নিজের ওষুধ চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। অনেক সময় একই পরিবার বা ঘরে একাধিক রোগী একই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করেন/খান।
ওষুধের নাম: রোগী বা গ্রাহক কি ওষুধ সেবন করছেন তা জানতে সাহায্য করে। যদি কখনো বিষক্রিয়া হয় তবে উপযুক্ত প্রতিষেধক দিতে সহায়তা করে। বিরূপ বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।
ওষুধের স্ট্রেন্থ ও সরবরাহকৃত ওষুধের পরিমাণ: কতবার ওষুধ খাওয়াতে/সেবন করতে হবে তা জানতে সহায়তা করে। রোগী বা গ্রাহক কোন কারণে ভুলে গেলে মেডিসিন শপের কর্মী বা ডিসপেন্সার এক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। রোগীকে কি পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করা হলো তা সে জানতে পারে।
কতদিন চিকিৎসা চলবে ও বিশেষ নির্দেশনা: কতক্ষন পর পর ওষুধ সেবন করতে হবে তা রোগীকে জানতে সাহায্য করে। রোগী কখন ওষুধটি সেবন করা বন্ধ করবেন তা জানতে সাহায্য করে। কিভাবে ওষুধ সেবন করতে হবে খাবারের সাথে না খাবার ছাড়া অথবা অনেক পানীয়ের সাথে রোগী/গ্রাহককে তা জানতে সাহায্য করবে।
যে তারিখে ওষুধ সরবরাহ করা হলো, টেলিফোন নাম্বার, ঠিকানা এবং মডেল মেডিসিন শপের নাম: কোন তারিখে ওষুধ ডিসপেন্স করা হয়েছে তা জানতে রোগী/গ্রাহককে সাহায্য করবে। যদি কোন সমস্যা হয় তবে রোগীকে ফোন করতে সাহায্য করবে। যদি আরও ওষুধ কিনতে হয় তবে রোগী কাউকে মেডিসিন শপে পাঠাতে পারবে।
৪. ওষুধের পরিমাণ ও মূল্য হিসাব করুন এবং বিল তৈরি করুন:
প্রয়োজনীয় ওষুধের পরিমাণ হিসাব করুন এবং রোগী বা গ্রাহকের সাথে আলোচনা করুন বা জানান যাতে সে মোট মূল্য সম্পর্কে সচেতন হয়।
৫. ব্যবস্থাপত্রটি আবার পড়ুন এবং বাছাইকৃত ওষুধগুলো আবার মিলিয়ে নিন। এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোন ক্ষতিকর বিক্রিয়া হয় কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
৬. রোগী/গ্রাহককে ওষুধ বুঝিয়ে দিন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিন।
রোগীকে যে ওষুধটি ডিসপেন্স করা হয়েছে তার নাম বলুন।
ওষুধটি কি জন্য সেবন/ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কে বলুন।
ওষুধটি কিভাবে সেবন/ব্যবহার করতে হবে বলুন।
এই ওষুধের সাথে অন্য কোন ওষুধ বা কোন খাদ্য গ্রহণ করলে কি সমস্যা হতে পারে তা বুঝিয়ে বলুন।
ওষুধ ব্যবহার/সেবনের পর কবে থেকে শারীরিক অবস্থার উন্নতি আশা করা যায় বা কখন সেবন/ব্যবহার বন্ধ করতে হবে তা বুঝিয়ে বলুন।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোকপাত করুন এবং সমস্যা দেখা দিলে করণীয় সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন।
রোগী/গ্রাহক বা সেবাদানকারীদের সচেতন করুন যেন তারা একজনের নির্ধারিত ওষুধ অন্যকে না দেন।
রোগী বা গ্রাহককে ওষুধের কোর্স সম্পন্ন করার জন্য উৎসাহিত করুন।
প্রয়োজনবোধে রোগী/গ্রাহককে অবস্থা পর্যালোচনার জন্য পুনরায় আসতে বলুন।
রোগী/গ্রাহকের জন্য নির্দেশনার চেকলিস্ট (ডিসপেন্সারের ব্যবহারের জন্য):
ওষুধের নাম: যে সকল রোগী দীর্ঘ মেয়াদী অসুস্থতার মধ্যে আছেন তাদের ওষুধের নাম জানা উচিত। যদি কখনো ব্যবস্থাপত্র হারিয়ে ফেলেন বা অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে ফেলেন সেক্ষেত্রে এটি সহায়তা করবে।
ওষুধ সেবন/ব্যবহার ও কিভাবে সেবন করতে হবে: এটি জানা থাকলে তা রোগীকে নিয়মিত ওষুধ সেবনে/ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে। এটি একধরনের সচেতনতা তৈরি করে এবং ওষুধ সেবনে/ব্যবহারে ভুল করা কমায়। ওষুধের সঠিক সেবনবিধি/ব্যবহারবিধি দ্রুত রোগ সারাতে সাহায্য করবে এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে। ওষুধের অকার্যকর হয়ে যাওয়া প্রতিহত করে। ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া কমায়।
চিকিৎসার সময়সীমা এবং কখন রোগীর অবস্থার উন্নয়ন আশা করা যায়: রোগী/গ্রাহককে ওষুধ সেবন/ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে। রোগী/গ্রাহকের অবস্থার উন্নয়ন হয়। কখন/কবে চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে রোগী/গ্রাহককে জানতে সহায়তা করে।
রোগীকে ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন করার উপদেশ দিন: রোগী/গ্রাহককে নির্দেশনা মেনে চলতে ও ওষুধ সেবনে/ব্যবহারে ভুল না করতে সাহায্য করবে। রোগী/গ্রাহকের অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করে যেমন- দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করবে। রোগের পুনরায় আক্রমণ/আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করে।
অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য প্রয়োজনে রোগীকে আবার আসতে বলুন: রোগীর অবস্থার পর্যালোচনা করতে সহায়তা করে। কোন ওষুধটি সঠিকভাবে কাজ করছে তা ডাক্তারকে জানাতে সাহায্য করে। রোগীর ভালো হওয়া মেডিসিন শপের কর্মী/ডাক্তারকে উৎসাহিত করে।
৭. ওষুধপত্রগুলো প্যাকেট করুন:
উপযুক্ত পাত্র বা মোড়ক ব্যবহার করুন যাতে ওষুধের গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।
বড়ি, ক্যাপসুল ইত্যাদি: প্লাস্টিকের জিপ ব্যাগ/প্যাকেট অথবা কাগজের খাম।
তরল বা অর্ধ তরল (সেমিসলিড) ওষুধ: কোম্পানির প্যাকেট আবৃত অবস্থায়ই ডিসপেন্সিং করুন।
শুকনা পাউডার জাতীয় ওষুধ (যা ব্যবহারের পূর্বে তৈরি করে নিতে হয়):
১. ঝাকানো যায় এমন বোতলে প্রথমে গুড়া ওষুধ নিন।
২. যদি কোন তরল যোগ করার নির্দেশনা লেবেলে লেখা থাকে তবে সঠিক পরিমাণে সঠিক তরল মেপে নিন (পানি)।
৩. অল্প অল্প করে পানি যোগ করুন এবং প্রতিবারই ঝাঁকিয়ে নিন। যতক্ষণ না ওষুধের গুড়া পানিতে সুষমভাবে মিলে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।
৪. অবশিষ্ট পানিটুকু বোতলে ঢেলে নির্দিষ্ট দাগ পর্যন্ত পূর্ণ করুন। অথবা মেপে নেয়া পানি পুরোটুকুই ঢেলে দিন।
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের তরল ঘনত্ব কমানোর বা পাতলা করার নিয়ম:
(ক) রক্ত বন্ধ করা বা বিশেষ ধরনের ক্ষতের জন্য: ১ ভাগ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এর সাথে ৩ ভাগ পানি মিলিয়ে নিতে হবে। এ দ্রবনে তুলো ভিজিয়ে ক্ষততে লাগাতে হবে।
(খ) নোংরা ড্রেসিং তুলে ফেলার জন্য: ১ ভাগ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ৩ ভাগ পানি মিলিয়ে নিতে হবে। এই দ্রবণ দিয়ে ড্রেসিং ভিজিয়ে নিন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন এবং তুলে ফেলুন।
(গ) মাউথওয়াশ ও দূর্গন্ধনাশক: এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড মিলিয়ে গড়গড়া করুন।
৮. ব্যবস্থাপত্রের নথি সংরক্ষণ:
মডেল মেডিসিন শপ থেকে বিক্রিত সকল এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধের বিবরণ এই নথিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
পুনঃপ্রস্তুতকরণ (Reconstitution)
এটি ওষুধের পাউডার/গুড়ার সাথে প্রয়োজনীয়/নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি মিলিয়ে সেবনের জন্য তৈরি করার একটি প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতি সে সব ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা পানিতে মিশ্রিত অবস্থায় দীর্ঘসময় কার্যকর থাকে না বা কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। এজন্য পাউডার/গুড়া অবস্থায় বিপণনকৃত ওষুধসমূহ ব্যবহারের/সেবনের ঠিক আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি মিশিয়ে পুনঃপ্রস্তুত করে নিতে হবে। এ ধরনের ওষুধের উদাহরণ হলো এমোক্সিসিলিন এবং পেন-ভি সিরাপ। একবার পানি মেশানো হলে তা নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যেই ব্যবহার করে ফেলতে হবে। প্রায়ই সময়টি সংক্ষিপ্ত এবং কয়েকদিন মাত্র।
কিভাবে খাবার স্যালাইন প্রস্তুত করতে হয়
ডায়রিয়ার চিকিৎসায় প্রায়ই খাবার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়। খাবার স্যালাইন সাধারণতঃ পূর্বেই প্রস্তুতকৃত ও প্যাকেটজাত অবস্থায় পাওয়া যায় যাতে লবণ ও চিনির একটি মিশ্রণ তৈরি থাকে এবং যা আধা লিটার স্যালাইন তৈরির জন্য যথেষ্ট।
আধা লিটার খাবার স্যালাইন বানানোর পদ্ধতি:
পরিষ্কার ফুটানো এবং ঠান্ডা খাওয়ার পানি আধা লিটার পরিমাণে মেপে একটি পরিষ্কার পাত্রে নিন। (সাধারণ মাপের দুই গ্লাসে আধা লিটার হয়)।
খাবার স্যালাইনের প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সবটুকু গুড়া পাত্রের পানিতে ঢেলে দিন এবং নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না সমস্ত গুড়ো পানিতে মিশে যায় এবং কোন গুড়া দেখা না যায়। এখন দ্রবণটি তৈরি হয়েছে।
তৈরি খাবার স্যালাইন দ্রবণ ১২ ঘন্টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। ১২ ঘন্টা পর যদি দ্রবণের কিছুটা থেকে যায় তবে তা ফেলে দিন। দরকার হলে নতুন করে আর একটি স্যালাইনের প্যাকেট ও আধা লিটার পানির সাহায্যে দ্রবণটি আবার বানান।
সেশন-৩: ওষুধ প্রয়োগের পথ
ওষুধের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার:
শক্তিমাত্রা/পটেন্সির উপর;
কোন পথে প্রয়োগ করা হল তার উপর;
ডোজেস ফর্মের উপর;
মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের উপর।
ওষুধ শরীরে যে পথে প্রবেশ করানো হয় সেটি হল ওষুধ প্রয়োগ পথ। সাধারণতঃ চারটি প্রধান পথে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করানো যায়:
এন্টারাল রুট (মুখে খাওয়ার মাধ্যমে);
প্যারেন্টারাল রুট (ইনজেকশনের মাধ্যমে);
টপিক্যাল রুট (সরাসরি চামড়ায়);
রেসপিরেটরি রুট (শ্বাস-প্রশ্বাস এর মাধ্যমে)।
সাধারণ ডোজেস ফর্ম এবং প্রয়োগ পথ
| প্রয়োগ পথ | ডোজেস ফর্ম |
| এন্টারাল রুট (মুখে খাওয়ার মাধ্যমে) | গুড়া ওষুধ, বড়ি বা ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, দ্রবণ বা ইমালসন, সিরাপ, জেল, স্যাচেট, পিল ইত্যাদি। |
| প্যারেন্টারাল রুট (ইনজেকশনের মাধ্যমে) | দ্রবণ, সাসপেনশন, ইমালশন ইত্যাদি। |
| টপিক্যাল (সরাসরি চামড়ায়) | মলম, ক্রিম, পেস্ট, লোশন, প্লাস্টার, ডাস্টিং পাউডার, জেল ইত্যাদি। |
| ট্রান্সডারমাল (ত্বকের মাধ্যমে) | প্যাচ ব্যবহার করে। |
| রেক্টাল (পায়ুপথে) | সাপোজিটরি, মলম, ক্রিম, ঢুশ ইত্যাদি। |
| ইউরেথেরাল (মুত্রনালী) | সাপোজিটরি। |
| সাবলিঙ্গুয়াল (জিহ্বার নিচে) | লজেন্স, ট্যাবলেট, স্প্রে ইত্যাদি। |
| ইন্ট্রানাসাল (নাকের ছিদ্র পথে) | ফোঁটা, স্প্রে, ইনহেলার ইত্যাদি। |
| কনজাংটাইভাল (চোখে) | মলম, ফোঁটা বা ড্রপ। |
| ইন্ট্রা-অকুলার (চোখের ভিতরে) | দ্রবণ। |
| ইন্ট্রা-রেস্পিরেটরি (শ্বাসের মাধ্যমে) | এরোসল, ইনহেলার। |
রোগীকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ডিসপেন্সিং এর ক্ষেত্রে যে সকল সতর্কতা পালন করার পরামর্শ/নির্দেশনা দেওয়া উচিত:
সলিড ওষুধসমূহের ক্ষেত্রে:
সাধারণতঃ ট্যাবলেট/বড়ি বা ক্যাপসুলগুলো পানি দিয়ে খেতে হবে। কিছু বিশেষ ওষুধ, যেমন- এটোরভাসটাটিন জাম্বুরা জাতীয় ফলের রস (জুস) দিয়ে খেলে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া, কোন কোন এন্টিবায়োটিক দুধের সাথে গ্রহণ করলে তা অন্ত্রে পুরোপুরি শোষিত হয় না, যেমন- সিপ্রোফ্লক্সাসিন।
ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট/বড়ি খাওয়ার সময় গিলে ফেলার পূর্বে তা ভেঙ্গে ফেলা বা চিবানো উচিত নয় যদি না চিকিৎসক কোন বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। কারণ, অনেক ওষুধের গায়ে বিশেষ আবরণ থাকে।
তরল ওষুধসমূহ:
তরল ওষুধ বিশেষ করে সাসপেনশন সেবনের পূর্বে তা ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নেয়া উচিত, কারণ অনেক ওষুধ বোতলের তলায় জমে থাকে।
চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্ট এর নিকট ১ চা-চামচ মানে হলো ৫ এমএল ওষুধ। তবে বিভিন্ন বাড়িতে বিভিন্ন মাপের চায়ে চামচ পাওয়া যায় যাতে ওষুধের পরিমাণ ৫ এমএল এর কম বা বেশি হতে পারে। এতে আপনি কখনো কখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা কম ওষুধ পাবেন।
তরল ওষুধ সেবনের মাত্রা সঠিকভাবে সতর্কতার সাথে মেপে নিন।
যদি কোন শিশু বা কম বয়সী বাচ্চার জন্য ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয় অবশ্যই আপনার শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে কথা বলে শিশুটির ওষুধের সঠিক ডোজেস ফর্ম এবং তরল ওষুধের পরিমাণ জেনে নিন।
মুখে খাবার অন্যান্য ওষুধসমূহ:
যদিও অধিকংশ মুখে খাবার ওষুধ গিলে খেতে হয় তবে কোন কোন ওষুধ চিবিয়ে ধীরে ধীরে জিহ্বার উপর গলিয়ে খেতে হয়। চুষে খাবার ওষুধগুলো মুখের ভিতর সম্পূর্ণ গলে যাওয়া পর্যন্ত চুষে খেতে হবে, সরাসরি গিলে খাওয়া যাবে না।
চুইংগাম জাতীয় ওষুধসমূহ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিবাতে হয় যাতে সম্পূর্ণ ওষুধ নিঃসরিত হতে পারে এবং তা অনেক সময় ৩০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।
লজেন্স জাতীয় ওষুধগুলো চুষে খেতে হবে, এগুলো গিলে ফেলা উচিত নয়।
ইনহেলার ব্যবহারের নিয়ম:
ইনহেলারটি ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন (৩ থেকে ৪ বার);
ক্যাপটি অপসারণ করুন;
ইনহেলার মুখ থেকে দূরে সরিয়ে শ্বাস ত্যাগ করুন;
ইনহেলারটি মুখে লাগিয়ে ধরুন;
ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে শুরু করুন এবং ইনহেলারের উপরের অংশে জোরে একবার চাপ দিন, ধীরে ধীরে পূর্ণ নিঃশ্বাস গ্রহণ করুন;
ইনহেলারটি মুখ থেকে সরিয়ে নিন এবং আপনার শ্বাস ছেড়ে দেয়ার আগে ১০ সেকেন্ড আটকে রাখুন, তারপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছেড়ে দিন।
ত্বকে ব্যবহারের জন্য ওষুধসমূহ:
মলম বা ক্রিমের ক্যাপ প্রথমবার সরালে টিউবের মুখ সিল করা থাকতে পারে, যা ক্যাপ উল্টো করে চাপ দিয়ে ছিদ্র করা যায়;
ত্বক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে চেপে শুকিয়ে নিন;
মলম বা ক্রিম পাতলা করে এবং সুষমভাবে নির্দিষ্ট স্থানে লাগিয়ে হালকাভাবে মালিশ করুন;
মলম লাগানোর পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন;
করটিকোস্টেরয়েড জাতীয় মলম দিনে দুই বারের বেশি ব্যবহার করা উচিত না।
সাপোজিটরি প্রয়োগের পদ্ধতি:
পায়খানার রাস্তা বা পায়ুপথের চারপাশ ধুয়ে শুকনো করুন;
হাত ভালোভাবে ধুয়ে প্যাকেট থেকে সাপোজিটরি বের করুন;
হালকা গরম পানিতে ডুবিয়ে ভেজালে পায়ুপথে প্রবেশ করাতে সুবিধা হয়;
কিছুক্ষণ শুয়ে হাঁটু ভাজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসুন এবং সাপোজিটরিটি হালকা চাপ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করান;
মনে রাখবেন, সাপোজিটরি প্রয়োগ করার পর ১ ঘণ্টা পর্যন্ত টয়লেট ব্যবহার করা যাবে না।
ওষুধের মিথস্ক্রিয়া/মিশ্রক্রিয়া (Drug Interaction)
ওষুধের মিথস্ক্রিয়া হলো- কোন কিছুর উপস্থিতির কারণে যখন কোন একটি ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তিত হয়ে যায়;
যখন কোন রোগী একই সাথে একাধিক ওষুধ সেবন করে তখন এ ধরনের মিথস্ক্রিয়া হতে পারে;
ভেষজ ওষুধ বা খাদ্যের সাথেও এটি হতে পারে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের মিথস্ক্রিয়া ও সতর্কতা:
অ্যামোক্সিসিলিন + জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি: অ্যামোক্সিসিলিন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কার্যকারিতা কমায়। সতর্কতা: অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিন।
অ্যাসপিরিন + ওয়ারফেরিন: উভয়ের সম্মিলিত কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। সতর্কতা: একসাথে ব্যবহার করা যাবে না।
চারকোল + যে কোন ওষুধ: চারকোল যে কোন ওষুধের শোষণ হতে বাধা দেয়। সতর্কতা: একত্রে সেবন করা উচিত না।
সিপ্রোফ্লোক্সাসিন + ম্যাগনেসিয়াম এন্টাসিড: এন্টাসিড সিপ্রোফ্লক্সাসিন এর শোষণ এবং কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। সতর্কতা: প্রথমে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন সেবন করুন এবং ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারপর এন্টাসিড সেবন করুন।
মেট্রোনিডাজল + এলকোহল: একত্রে সেবন করলে মিশ্রক্রিয়ার ফলে গ্রাহকের বমি হয়। সতর্কতা: চিকিৎসা চলাকালীন এলকোহল সেবন করা যাবে না।
ওমিপ্রাজল + ম্যাগনেসিয়াম এন্টাসিড: এন্টাসিড পাকস্থলীতে ওমিপ্রাজলের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। সতর্কতা: ওমিপ্রাজল সেবনের ২ ঘণ্টা পর এন্টাসিড খেতে হবে।
টেট্রাসাইক্লিনসমূহ + এন্টাসিড / আয়রন / ক্যালসিয়াম / জিংক: একে অপরের শোষণকে প্রভাবিত করে। সতর্কতা: ওষুধগুলো আলাদাভাবে ২ ঘণ্টা ব্যবধানে সেবন করতে হবে।
সিপ্রোফ্লোক্সাসিন + দুধ: দুধ সিপ্রোফ্লোক্সাসিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। সতর্কতা: দুধ পান করার দুই ঘণ্টা পর সিপ্রোফ্লোক্সাসিন সেবন করুন।
জাম্বুরা জাতীয় ফলের সাথে বিভিন্ন ওষুধের মিশ্রক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (ফিলোডিপিন, নিফেডিপিন ইত্যাদি), রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ (সাইক্লোস্পোরিন ইত্যাদি), রক্তে চর্বি কমানোর ওষুধ (অ্যাটরভাসট্যাটিন ইত্যাদি) এবং মানসিক চাপের ওষুধের সাথে জাম্বুরা বা ফলের রস খাওয়া যাবে না।
সেশন-৪: ওষুধের মান বজায় রাখা
একটি মডেল মেডিসিন শপে নিম্নমানের ওষুধ প্রতিহত করার উপায়:
যেখানে ওষুধ থাকবে ও বিক্রয় হবে সেখানের পরিবেশ স্যাঁতস্যাঁতে নয়, অতিরিক্ত আলো/তাপ বা পোকামাকড়মুক্ত তা নিশ্চিত করা;
ওষুধের চালান গ্রহণ করার সময় বাক্সগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা দেখা;
ওষুধের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা;
বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা;
সেলফে ওষুধ সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা, মেঝেতে না রাখা;
ক্রয় ও বিক্রয়ের সকল নথি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা;
গ্রাহককে ডিসপেন্স করার আগে নিশ্চিত হওয়া যে তা সঠিকভাবে প্যাক করা হয়েছে;
বাড়িতে কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে তা বুঝিয়ে দেওয়া;
মেয়াদোত্তীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ ওষুধ তাক থেকে সরিয়ে ফেলা;
কাজের সময় নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া।
নিম্নমানের ওষুধ সনাক্ত করার চিহ্নসমূহ
প্যাকেজিং: ভাঙ্গা বা ছেড়া।
লেবেলসমূহ: হারিয়ে গেছে/নাই, অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ট বা পড়া যাচ্ছে না।
সলিড ওষুধ: বড়ি ফুলে উঠেছে বা নরম হয়েছে, রঙের পরিবর্তন, আঠালোভাব, ক্যাপসুলের আবরণ নরম হওয়া, অস্বাভাবিক গন্ধ, স্ট্রিপ বা ব্লিস্টার লিক করা।
তরল ওষুধ: রং, গন্ধ বা স্বাদের পরিবর্তন, ছিপি খোলার সময় গ্যাস বের হওয়া, তলানি জমা (সাসপেনশন ছাড়া), ঘোলাটে ভাব, বোতল ফাটা বা ভাঙ্গা।
সেমি সলিড ওষুধ: মলম বা ক্রিম গলে যাওয়া, রং ও গন্ধ পরিবর্তন, শুকিয়ে যাওয়া।
জীবাণুমুক্ত ওষুধ: রং ও স্বচ্ছতার পরিবর্তন, ঘোলাটে ভাব, তলানি জমা, অস্বাভাবিক জিনিস দেখা যাওয়া।
ভেজাল ওষুধ
ভেজাল ওষুধ হলো যার পরিচিতি এবং উৎস সম্পর্কে ভুল তথ্য সংবলিত লেবেল লাগানো আছে, এগুলো বাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ওষুধসমূহের নকল।
মূল্য: আসল ওষুধের তুলনায় অনেক কম মূল্যে বিক্রয় করা হয়।
সরবরাহের উৎস: বড় দোকানে বিক্রয় হয় না, দালাল বা ক্ষুদ্র দোকানের মাধ্যমে গোপনে বিক্রয় হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও ব্যাচ নম্বর: তারিখ বা ব্যাচ নম্বর না থাকা কিংবা বাইরের প্যাকেজিংয়ের সাথে ভেতরের ওষুধের মিল না থাকা।
সেশন-৫: ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং ফার্মাকোভিজিলেন্স
পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া: উপযুক্ত ডোজে ওষুধ সেবন করলে রোগ নির্মূলের পাশাপাশি শরীরের উপরে অতিরিক্ত কিছু প্রভাব ফেলে যা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও অস্বাভাবিক নয় (যেমন- ক্লোরফেনিরামিন সেবনে ঘুম পাওয়া)।
বিরূপ প্রতিক্রিয়া (Adverse Drug Reaction - ADR): স্বাভাবিক ডোজের ওষুধ সেবনের ফলে কখনো কখনো যে ক্ষতিকর ফল ঘটে যা কাঙ্ক্ষিত নয়।
বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া
টাইপ-এ: উদ্দীপিত ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব- ওষুধের ডোজ নির্ভর (যেমন- ইনসুলিনে রক্তে গ্লুকোজ কমা)।
টাইপ-বি: অদ্ভুত বা সক্রিয় প্রতিক্রিয়া- ওষুধের ডোজ নির্ভরশীল নয় (যেমন- এলার্জি, অ্যানাফাইল্যাক্সিস)।
টাইপ-সি: দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব- দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনের ফলে হয় (যেমন- ব্যথানাশকে Analgesic Nephropathy)।
টাইপ-ডি: বিলম্বিত প্রভাব (যেমন- থ্যালিডোমাইডে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি)।
টাইপ-ই: চিকিৎসা বা ওষুধ সেবনের শেষে প্রতিক্রিয়া।
ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে মডেল মেডিসিন শপের ভূমিকা:
রোগী বা গ্রাহককে ওষুধ সেবন ও সংরক্ষণের সঠিক নির্দেশনা দিন;
কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক জানাতে বলুন;
রোগীকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠান;
মহিলা রোগী গর্ভবতী কি না বা স্তন্যদানকারী কি না তা নিশ্চিত হোন;
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক সরবরাহকৃত ফরমে (www.dgda.gov.bd) বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনা রেকর্ড করে ড্রাগ ইন্সপেক্টরের নিকট পাঠিয়ে দিন।
সেশন-৬: যোগাযোগের মৌলিক দক্ষতাসমূহ
যোগাযোগ হলো দুই বা ততোধিক পক্ষের মাঝে তথ্য আদান প্রদান।
যোগাযোগ প্রধানত দুই ধরনের: মৌখিক যোগাযোগ ও কথোপকথনবিহীন যোগাযোগ (অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ)।
একজন ভালো যোগাযোগকারীর গুণাবলিসমূহ
গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যসমূহ গোপন রাখা (বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনে সাহায্য করে)।
সংক্ষেপে পরিষ্কার বার্তা জানানোর সক্ষমতা (ডাক্তারি পরিভাষা পরিহার করা)।
সমানুভূতি বা সহমর্মিতা (নিজেকে গ্রাহকের পরিস্থিতিতে চিন্তা করা)।
সক্রিয়ভাবে শোনা (Active listening)।
ইতিবাচক (যত্নশীল) মনোভাব প্রদর্শন।
উপযুক্ত অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার ও প্রশ্ন করার দক্ষতা (খোলা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা)।
কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা
জটিল মেডিকেল পরিভাষা ব্যবহার, চারপাশে শব্দ হওয়া, গোপনীয়তার অভাব, মনোযোগের অভাব, বোধগম্য ভাষা ব্যবহার না করা, অস্থির মনোভাব, রোগীর শোনার সমস্যা, অন্ধ বিশ্বাস বা কুসংস্কার, অধৈর্য হওয়া ইত্যাদি।
বাধা দূরীকরণের উপায়:
সৌজন্যমূলক আচরণ ও স্মিত হাসি দেওয়া;
ব্যস্ততার মনোভাব প্রকাশ না করা;
মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা ও চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা;
রোগীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা;
উপযুক্ত পরিবেশ ও গোপনীয়তা প্রদান করা।
রাগান্বিত রোগীর সাথে আচরণের নিয়ম:
কখনো উগ্রভাবে উত্তর দেবেন না, শান্ত ও মনোযোগী থাকুন, উদ্বেগের কারণ বোঝার চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে ক্ষমা চেয়ে নিন, গলার স্বর উঁচু করবেন না, সমস্যার সমাধান করতে না পারলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহায়তা নিন।

Thanks
ReplyDeleteধন্যবাদ স্যার
ReplyDeleteধন্যবাদ এতো সহজ করে দেয়ার জন্য
ReplyDeleteThanks sir🙏
ReplyDeleteধন্যবাদ স্যার
ReplyDeleteধন্যবাদ স্যার
ReplyDeleteThanks sir
ReplyDeleteধন্যবাদ স্যার🙏
ReplyDeleteThank you sir
ReplyDeletesir,Thank you so much.
ReplyDeletethanks sir
ReplyDelete